আমি তৌহিদা। বাংলাদেশের অন্যান্য মুসলিম পরিবারের মতই আমার বাবা মাও আমাকে খুব অল্প বয়স থেকে ধর্মীয় শিক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করেন। আমার পঞ্চম জন্মদিনের পর আব্বু আমাকে বাসায় এসে আরবি ও কোরআন শিখানোর জন্য একজন শিক্ষক রাখেন। বাইরে থেকে দেখলে নিশ্চয়ই মনে হত খুবই পবিত্র কাজ চলছে, শান্তিময় পরিবেশ। মাসাল্লাহ কত সুন্দর ভাবে পবিত্র গ্রন্থের শিক্ষা চলছে।
আমার ৬ষ্ঠ জন্মদিনের আগেই আমার একবার কোরআন খতম দেয়া হয়ে গেছে। ২৫ তা সুরাও শিখা হয়ে গিয়েছিল আমার ৮ম জন্মদিনের আগেই। সবাই অনেক খুশি ছিল এই বেপারটা নিয়ে।
কিন্তু কেউ এখন পর্যন্ত জানে না এত গুলো বছর আমারই ড্রয়িং রুমে, আমার সাথে কি কি হয়েছে, যখন আমি পবিত্র কোরআন পড়া শিখতাম। কেউ কখন দেখতে পায়নি, যতখন হুজুর আমাকে পড়াতেন পুরাটা সময় তার হাত থাকতো আমার পেন্টের আরালে, আমার গোপনাঙ্গের ভিতর। যতখন আমি পরতাম তার আঙ্গুল আমার যৌনাঙ্গের ভিতর ঘুরে বেরাত।
সে নিরদিধায় সবসময় এমনটাই করতো। কখন ভয় পেতে দেখিনি তাকে। নিজের সম্পত্তি ভাবত হয়তো। ততদিনে আমি বুঝে গেসি, পবিত্র কোরআন তার সামনে থাকলেও তিনি সেটাও ভয় করেন না। একদম ই না। আমি কোরআন তেলাওয়াত করতে থাকতাম জোরে জোরে , ব্যাথাটা ভুলে থাকতে, লজ্জাটা লুকিয়ে রাখতে। কারণ আমি জানতাম না, এ ছাড়া আমার কি করা উচিত ছিল।
প্রায় এক বছর পর আমার ছোট ভাই আমার সাথে ওই একই হুজুরের আরবি পড়া শুরু করল। ভেবেছিলাম আর একজন মানুষের উপস্থিতিতে হয়তো আমার উপর এই নির্যাতন বন্ধ হবে। কিন্তু হাইরে আমার কপাল! কপালে হইতো লিখাই ছিল এমন চলতেই থাকবে। কিভাবে কিভাবে যেন আমার ভাইয়ের উপস্থিতিতেও তিনি তার আগের কার্যকলাপ চালিয়ে জেতেন। আমার নিরবতাই ছিল, তার সুযোগ ।
যে দিন আমার গোপনাঙ্গে হাতিয়ে উনার সুখ পর্যাপ্ত হতনা সেই দিনগুলোতে উনি আমার ভাইকে আগে আগে ছুটি দিয়ে দিত। ভাই চলে যাওয়ার পর সে জোর করে তার কলে বসাতেন আমাকে এবং বাদ্ধ্য করতো আমাকে তার পুরুষাঙ্গ স্পর্শ করতে। আমার জামা উচু করে শরীরের এমন কোন জায়গা নেই যেখানে তার মুখ স্পর্শ করেনি। তখনও নারি শরীরের কোন অংশই আমার সুথম হয়নি।
যখন আমার ৭ বছর তখন এক মাসের জন্য সে দেশের বাড়ি গিয়েছিল। যখন সে ফিরে আসে আমি জানতে পারলাম যে তার বিয়ে হয়েছে। তখন আমি বিয়ের গুরত্ব জানি না। কিন্তু এতটুকু বুঝতাম যে, বিয়ে মানে দায়িত্ব। এটা ভেবে আমার একটু সস্থি হল যে, এইবার হয়তো থামবে সব। কিন্তু আবার আমাকে ভুল প্রমান করলো হুজুর সাহেব । আগের চেয়ে আরও খারাপ হল পরিস্থিতি। আরও হিংস্র হয়ে উঠল সে। এইবার আমার ভাইকে আগে আগে ছুটি দিলে আমাকে জোর করে বিছানায় সুয়াতেন তিনি। হিংস্র পশুর মত খামচে বেরাতেন আমার পুরো শরীর যতক্ষণ পর্যন্ত উনার মন শান্ত না হয়। এইবার তো সে জোরে জোরে আমার গোপনাগে আঙ্গুল ঢুকাচ্ছিল যে, আমার যৌনিপর্দা তার আঁচরের ফেটে যায়।
ওই দিন আমি অসহনীয় ব্যাথা অনুভব বোধ করি। এইবার আমি আর নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারি না। এই প্রথমবারের মত গত ৩ বছরের মধ্যে আমি চিৎকার করে কাঁদতে শুরু করলাম। আমার এত জোরে কান্নার শব্দ শুনে সে নিজেকে সামলে নিলেন। আমার জামা টেনে নিচে নামালেন। আমার পিঠ, মাথায় হাত বুলিয়ে আমাকে শান্ত করার চেষ্টা করলেন। বার বার বলতে থাকলেন কাঁদে না সোনা। আমার কান্না বন্ধ হলে সে আমাকে ছেড়ে দেয়।
ওই বয়সে আমি ৫টা ভাষা বলা শিখে গিয়েছিলাম, কিন্তু খুবি আশ্চর্যজনক ব্যাপার কোন ভাষাতেই কার কাছে প্রকাশ করতে পারিনি। আমার বাসার বুয়াকে একদিন জিজ্ঞেস করেছিলাম হুজুর আমাকে কেন এত অত্যাচার করে। কিন্তু পুরোটা বলতে পারিনি। কিভাবে বলতে হয়, তখন আমি জানিনা। এই দিন আমার কান্নাকাটি দেখে বুয়া আন্দাজ করেছিল আমার চোখের পানির জন্য হুজুর দায়ি।
ওই দিন আম্মু অফিস থেকে আসার পর বুয়া আম্মুকে বলে যে, আমি আম্মুকে হুজুর সম্পর্কে কিছু বলতে চাই । আম্মু আমাকে বার বার জিজ্ঞাস করতে থাকে আর আমি অসস্তিতে এই ঘর অই ঘর পালাতে থাকি। আমি কিভাবে কি বলব বুজতে না পেরে একটি কাগজে লিখে দেই হুজুর আমার শরীর নিয়ে কি ধরনের বিচ্ছিরি কার্যকলাপে লিপ্ত হয়। আম্মু তখন আব্বুকে ব্যাপারটা জানালেন। আব্বু পরের দিন হুজুরকে বলে আমাকে আর পরাতে হবেনা, শুধু আমার ছোট ভাইকে পরালেই চলবে । এই ঘটনার প্রায় ১ সপ্তাহ পর থেকে হুজুর হুট করে আসা বন্ধ করে দিলেন, কাউকে না জানিয়েই। এরপর আর কখন হুজুরের সাথে আমার দেখা হয়নি। কিন্তু এখন পর্যন্ত এমন একদিনও নাই যেদিন এই ঘটনাগুলো আমার মনে পরেনি।
এই ঘটনাগুলো আমার নিজের বাসার ড্রয়িং রুমে হয়েছে। তাই মনে রাখবেন, বয়স-পোশাক-লোকেশান কোন কিছুই আসলে আপনাকে নিরাপত্তা দিতে পারবেনা, যতক্ষন না আপনি এই ধরনের মানুষরূপি পশুদের বধ করা শিখবেন। তাই, আমাদের সচেতনতা, শিক্ষা আর এমন পরিবেশ দরকার যেখানে আমরা বলতে পারব, জানাতে পারব। প্রতিবাদ করতে পারব এই সব বিষয় নিয়ে।
অডিও লিংক :
https://soundcloud.com/rubel-mahabub/break-the-silence-7
অডিও লিংক :
https://soundcloud.com/rubel-mahabub/break-the-silence-7

No comments:
Post a Comment