Saturday, 20 June 2015

সবাই উৎকণ্ঠা নিয়ে জিজ্ঞাসা করলো, কি হয়েছে!

গত পহেলা বৈশাখের এই বিভৎস ঘটনার পর থেকেই আমার ভিতর তোলপাড় হয়ে যাচ্ছে। কেবলই ভাবছি এরকম একটা দিনে আমিও ছিলাম। কি যে ভয়াবহ সেই দিন। কত বৎসর আগের কথা, অথচ ভাবলে এখনও শরীর ঘিন ঘিন করে উঠে।
আমি তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী, সাবসিডিয়ারি পরীক্ষার রেজাল্ট বের হবে। মনটা বেশ ফুরফুরে, গোলাপি রং এর একটা শাড়ী পরে নিলাম। আমাকে কে যেন বলেছিলো গোলাপি রং পরলে অশুভ কিছু ঘটে না।

সেদিন আমার পরীক্ষার ফলাফল বের হবে, তাই সুন্দর এই গোলাপি রংয়ে নিজেকে জড়িয়ে নিলাম। গেলাম রেজিস্টার ভবনে, দেখলাম বেশ ভীড়। সেটাই স্বাভাবিক, সবাই আমার মত ফলাফল দেখার জন্য ব্যাকুল। ভীড় ঠেলে দ্রুত পায়ে এগুতে থাকলাম। হঠাৎই বোধ করলাম আমার চারপাশে শুধু হাত আর হাত। সেই কুৎসিত হাতগুলো আমার শরীরে। আমি কিছুতেই পেরে উঠছি না, ব্যাগটা আমার বুকে চেপে প্রবল শক্তি নিয়ে বসে পড়লাম।
কী পৈশাচিক আচরণ আমারই সহপাঠী, আমারই ভাইদের কাছ থেকে। চোখের পানিতে মুখ ঝাপসা হয়ে এলো, আমি তাদের পায়ের ফাঁক দিয়ে দৌড়ে বেরিয়ে এলাম।
বুক ফাটা কান্না, অপমান সব নিয়ে লাইব্রেরির বারান্দায় এসে বসলাম। আমার বাঁধ ভাঙ্গা কান্নায় আমার সহপাঠীরা হতভম্ব। সবাই উৎকণ্ঠা নিয়ে জিজ্ঞাসা করলো, কি হয়েছে!
আমি শুধু মাত্র আমার দুজন প্রিয় বন্ধুকে বললাম –কি হয়েছে আমার। ওরা বললো, থাক আর কাউকে বলার দরকার নেই। আমিও ভাবলাম এই নোংরা ঘটনা না বলাই ভালো। চুপ হয়ে গেলাম, একেবারেই চুপ।
শুধু ভীড় দেখলে আজ এই মধ্য বয়সে এসেও ভীষণ ভয় পাই। আর আজ যখন দেখি একই ঘটনা আরো তীব্র মাত্রায় ঘটে চলেছে তখন মনে হয় আমি, আমরা চুপ করে ছিলাম বলেই কি এই পরিণাম!
মনজুন নাহার (ছদ্দ নাম)

No comments:

Post a Comment