
কিছু মেয়ের শাড়ি খুলে
ফেলা হয়েছে খোলা রাস্তায়। এ আর এমন কি! বরং ঠিক হয়েছে মেয়ে “মানুষ” এর এত রঙ ঢং
কিসের!তাও আবার পহেলা বৈশাখ!মজা নিয়েছে বেশ করেছে!মেরে তো আর ফেলে নাই ! মেয়ে
মানুষের আবার মান সম্মান !ভাল হয়েছে, আর কখনও সাহস পাবে না কেও গায়ে হাত দিলে তা সরিয়ে দেয়ার। দিবে কেন সরিয়ে? মেয়ে মানুষের শরীর!তাও আবার
একেবারে ছেলা কলা! খাবেইত তাইনা? উঠতি ছেলেরা তো একটু আধটু করবেই এরকম!ভাবছেন হয়ত,
কি
লিখছি আমি তাইনা? তাই লিখছি যা আপনি ভাবছেন। জি তাই । আপনি যখন সবকিছু শুনে
জেনে চুপচাপ বসে বসে টিভি সিরিয়াল দেখছেন,নিজের
ভার্সিটি পড়ুয়া মেয়েটাকে এর পর থেকে একা বেরুতে দিবেন না বলে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা
নিচ্ছেন, যখন ভাবছেন “সবার তো এরকম হয়না এই মেয়ে গুলার কেন হল? কারন আছে বলেই
হয়েছে!” তারপর আস্তে করে নিজের মেয়ের বুকের ওড়নাটা টেনে লম্বা করছেন ... তখন আপনি
এটাই ভাবছেন বিশ্বাস করুন আর নাই করুন!
আজ আমরা লাঞ্ছিত । আর এই
লাঞ্ছনার শুরু টুকু আমরা নিজেই করেছি। না, শাড়ির আঁচল দুপরলের জাগায় একপরল করে নেয়ার “মহৎ” ভুলটার কথা বলছি না। অথবা সেই পাগল স্বামীটার
কথাও বলছিনা যে “ভুল” করর ‘দুষ্টু’ ছেলেগুলোর গায়ে হাত দিয়ে ফেলেছিল। কথাও গিয়ে
এটাও নিশ্চয়ই ভেবেছেন পাগল লোকটা গায়ে হাত না দিতে গেলেই তো এত ঝামেলা বাধত না
।একটু গায়ে হাত-ই নাহয় দিত। কাপড়টা তো আর খুলতনা
! ভেবেছেন কিনা বলুন? এই যে ভাবলেন আর সাথে সাথে নিজ লাঞ্ছনার আগাম বার্তা নিজেই
নিশ্চিত করলেন। আর কত ছোট হয়ে বাঁচবেন বলুন তো ? আপনার ওই ছোট মনটাই এখন নানা
চিন্তার হিসাব কষছে। আপনাকে দেখাচ্ছে কত কঠিন আপনার রাস্তা। বিচার সে তো দূরে থাক
! সামনে বুঝি আপনারই পালা
মানুন আর নাই মানুন সামনে আপনারই পালা। আর বিচার এর আশা বা নিরাশা যাই করুন
কোন লাভ নেই যতক্ষণ নিজে না মানতে পারলেন আপনি সত্যিই নির্দোষ। হ্যাঁ আপনি
নির্দোষ। আপনার সাথে অন্যায় হয়েছে ,হচ্ছে , হতে যাচ্ছে । নিজের অন্যায়ের বিচার কার
হাতে ছেড়ে দিবেন বলে ভাবছেন? কেউ নেই আপনি ছাড়া
No comments:
Post a Comment